মার্কিন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় ২০০টির বেশি পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। কফি, গরুর মাংস, কলা, কমলার রসসহ এসব পণ্যের ওপর শুল্কছাড় কার্যকর হয়েছে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে। মূল্যস্ফীতি নিয়ে ভোক্তাদের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এটি ওয়াশিংটনের বড় নীতিগত পরিবর্তন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।
এতদিন ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে আসছিলেন তার আরোপিত আমদানি শুল্ক মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে না। তবে সাংবাদিকদের শুক্রবার তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে দাম বাড়তে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিকভাবে প্রায় কোনো মূল্যস্ফীতি নেই।
দেশটিতে সাম্প্রতিক অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করেছে ডেমোক্র্যাটরা। উচ্চ খাদ্যমূল্য নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্প বলেন, ‘শুল্ক থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব দিয়ে আগামী বছর নিম্ন ও মধ্য আয়ের মার্কিনদের ২ হাজার ডলার প্রদান করা হবে। আমরা তা করব এবং একই সঙ্গে ঋণও কমাব।’
প্রকাশিত তালিকায় ২০০টিরো বেশি খাদ্যপণ্যে শুল্কছাড় দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কমলা, আকাই বেরি, পাপরিকা, কোকো, খাদ্যশিল্পে ব্যবহৃত রাসায়নিক, সার এবং এমনকি কমিউনিয়ন ওয়েফারও।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, এসব পণ্য দেশটিতে উৎপাদিত বা প্রক্রিয়াজাত হয় না। এছাড়া আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, গুয়াতেমালা ও এল সালভাদরের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির অগ্রগতিও শুল্কছাড়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
মার্কিন বাজারে গরুর মাংসের দাম গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। স্টেকের দাম বেড়েছে ১৭ শতাংশ। কলার দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ। সব মিলিয়ে খাদ্যপণ্যের দাম সেপ্টেম্বরে আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি ছিল।
ফুড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট লেসলি সারাসিন বলেন, ‘খাদ্যপণ্যে শুল্কছাড়ের সিদ্ধান্ত ভোক্তাদের সহায়তা করবে। সকালের কফিও হয়তো আবার সাশ্রয়ী হবে।’
ট্রাম্প বলেছেন, আপাতত আর কোনো বড় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেই। আমরা সামান্যই শুল্ক কমিয়েছি। কফির দাম কিছুটা বেশি ছিল, এখন শিগগিরই কমে আসবে।